নৌকা দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি, আরেকবার নৌকায় ভোট দিন : প্রধানমন্ত্রী

Total Views : 64
Zoom In Zoom Out Read Later Print

নিজস্ব প্রতিবেদক |

নৌকায় ভোট দিলে সুখ সমৃদ্ধি হয়। নৌকা জয়লাভ করলে মানুষ সুখী সমৃদ্ধিশালী হয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আমরা দেশের উন্নয়ন করেছি। আগামী নির্বাচনে আমি যাকে নৌকার প্রার্থী দেব তাকে আপনারা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। নৌকা দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি। আপনাদের কাছে আমি ওয়াদা চাই, আরেকবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে ভোট দিয়েছেন, আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। প্রতিজ্ঞা করেন, নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এই দেশ কখনও ব্যর্থ হয়নি। যখনই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন তখনই মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে, মানুষের জীবন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে গেছে।
শনিবার বিকালে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ‘চিরদিন অন্ধকারে ছিল’। কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই এ অঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কথা তুলে ধরেন। রাস্তাঘাট উন্নয়ন করে দিচ্ছি, নদীগুলো ড্রেজিং করে দিলে একদিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে, অপরদিকে নৌপথ সচল করে দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের যাতে প্রসার ঘটে সেই ব্যবস্থা করে দেব। এই অঞ্চলে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছি, যাতে আপনাদের, যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য পরিবর্তন হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছি বাংলার মানুষের জন্য। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, বাংলার মানুষের উন্নত জীবন দেয়া এটাই আমার কাম্য। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। ২১ আগস্ট খুনি খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক জিয়া গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা করেছে। আল্লাহর রহমত আমি বেঁচে গেছি। ওরা কি করেছে, বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী দেশ করেছে। বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। মানি লন্ডারিং করেছে।
আমার জীবনে চাওয়া-পাওয়া নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা, আমার ভাই শেখ জামাল, শেখ কামাল ও ছোট্ট শিশু রাসেলসহ আমার পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছে। আমার আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করেছে।
আমি বিদেশে ছিলাম বিধায় বেঁচে গেছি। সব হারিয়েছি। স্বজন হারিয়ে ছয় বছর দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে এসে সারা দেশে ঘুরেছি, দেখেছি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা। বাংলার মানুষের পেটে খাবার ছিল না। পরনে ছিল ছেঁড়া কাপড়। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ত। রাস্তার পাশে পড়ে থাকত। আপনাদের মাঝেই খুঁজে পাই আমার হারানো স্বজনদের।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যখনই আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন তখনই দেশ উন্নত হয়েছে। যখনই ক্ষমতায় এসেছি। তখনই বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছি। আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছে। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছেন। আমার বাবা চেয়েছেন এ দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকুক। আমিও বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তায়নে কাজ করছি। মানুষ সুন্দর থাকবে যেটা ছিল আমার বাবার আকাক্সক্ষা। সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছি। জঙ্গি সন্ত্রাস ও মাদকের স্থান বাংলাদেশে হবে না। ইতিমধ্যে আমরা জঙ্গি দমনে সক্ষম হয়েছি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা শিক্ষার্থীদের প্রতি লক্ষ রাখবেন তারা যেন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকে জড়িত না হয়। প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করা হবে যাতে যুবক ও শিক্ষার্থীরা মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে না পড়ে। খেলাধুলা করে শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে লেখাপড়া শিখতে হবে। লেখাপড়ার বিকল্প নেই। লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পার।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চল ছিল অবহেলিত। ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন করেছি। প্রথম যখন এসেছি তখন এই তালতলীতে একটি বিল্ডিং ছিল। বরগুনার মানুষের জন্য আমি উপহার নিয়ে এসেছি। প্রত্যেক উপজেলায় বহুতল ভবন করে দেয়া হবে। বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে দিয়েছি। বিনা পয়সায় উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বই দিয়েছি।
প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি দিয়েছি। ওই উপবৃত্তির টাকা ১ কোটি ৪০ লক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দিয়েছি। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডিজিটাল কেন্দ্র গঠন করে দিয়েছি। মানুষ ওই ডিজিটাল কেন্দ্র থেকে ২০০ প্রকারের সেবা পাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে। দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুতের কোনো সমস্যা থাকবে না। কৃষকদের উপকরণ দিয়েছি। প্রতি কৃষককে ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়া হয়েছে।
ওই হিসাবে তারা ভর্তুকির টাকা পাচ্ছে। গরিব মানুষকে স্বাবলম্বী করার জন্য একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প করে দেয়া হয়েছে। জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করেছি। বর্গা চাষীদের ঋণের ব্যবস্থা করেছি। কোনো সরকার বর্গা চাষীদের ঋণের ব্যবস্থা করেনি। কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সবাইকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিনা পয়সার ত্রিশ প্রকারের ওষুধ দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছে। মানুষ বিনা পয়সায় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। আমরা কওমি মাদ্রাসার সনদের ব্যবস্থা করেছি। সনদের মাধ্যমে তারা চাকরি পাবে।
আমরা ৫৬০টি মডেল মসজিদ করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ বাংলাদেশে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামকে শহর বানিয়ে দেব। যাতে গ্রামে বসে শহরের সুবিধা পায়। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে। এই তালতলীতে জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ ভাঙার শিল্প গড়ে তোলা হবে।
জাহাজ নির্মাণ শিল্প নির্মাণ হলে হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। ২০৪১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। ২১০০ সালের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলাম সরোয়ার টুকুর উপস্থাপনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, সাবেক চীপ হুইপ আলহাজ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, অধ্যক্ষ শাহ আলম, ইসহাক আলী খান পান্না, বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, বরগুনা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর কবির, তালতলী উপজেলার আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জোমাদ্দার, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. তৌফিকুজ্জামান তনু। সভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বেসামরিক বিমান পর্যটন প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান কামাল, বিদ্যুৎ ও জালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন এমপি, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মাহবুবুর রহমান এমপি, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমন, পঙ্কজ দেবনাথ এমপি, জেবুন্নেছা আফরোজ হিরন এমপি, নাসিমা ফেরদৌস এমপি, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ জিএম দেলওয়ার হোসেন, আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌরমেয়র মতিয়ার রহমান, কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের দফতর সম্পদক রোজিনা রোজি, বরগুনা জেলা মহিলা লীগ সভানেত্রী মাধবী দেবনাথ, পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন, জাকিয়া নিজাম প্রমুখ।

See More

Latest Photos