সাংবাদিক দিলাল ইআরএফ এর পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

Total Views : 108
Zoom In Zoom Out Read Later Print

মোহাম্মদ ইউছুফ ।।

অর্থনৈতিকসর্ম্পকিত সাংবাদিক-সংগঠন ইকোনমিক রির্পোটার ফোরাম (ইআরএফ) এর আজকের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংগঠনটির ইতিহাসে এ প্রথম দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হলেন একুশে টেলিভিশনের প্ল্যানিং এডিটর সাইফুল ইসলাম দিলাল। দিলাল পেয়েছেন ৯৭ভোট আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জনকণ্ঠের সাংবাদিক কাউছার রহমান ৭২ ভোট পেয়েছেন। সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী’র পক্ষ থেকে এ কর্মঠ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিককে জানাই শুভেচ্ছাভিনন্দন।

অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক দিলাল তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতাজীবনে জাতীয়পর্যায়ের বিভিন্ন সাংবাদিক-সংগঠনের শীর্ষপদে দায়িত্বপালনের মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতার শেখড় থেকে শিখরে ওঠা এ ত্যাগী সাংবাদিক দিলাল ইআরএফ এর সার্বিক উন্নয়নে বিশেষকরে এ সংগঠনের নিজস্ব ঠিকানা বিনির্মাণে প্রবাদতুল্য অবদান রেখেছেন।
সাইফ ইসলাম দিলাল ১৯৮৭ সালের গোড়ায় সাংবাদিকতার প্রথম পাঠ নেন আবদুল আজিজ মাহফুজ সম্পাদিত সীতাকুণ্ডের প্রথম পত্রিকা পাক্ষিক গিরিসৈকত-এ। ১৯৯০ সালের শুরুতে সেসময়কার ব্যাংকিং সেক্টরের প্রভাবশালী জনপ্রিয় সাময়িকি ব্যাংকার ও স্বদেশ খবর এর চট্টগ্রাম প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৯১ সালে রাজধানীশহরে গিয়ে সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর পত্রিকায় স্টাফ রির্পোর্টার হিসেবে যোগ দেন। এছাড়া তিনি শিল্পবাজার, দৈনিক রূপালী, বাংলার বাণীসহ বিভিন্ন সাপ্তাহিকে অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ও প্রদায়ক হিসেবে কাজ করে সাংবাদিকতা পেশায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।ইত্তেফাকের অর্থনীতির পাতাও দেড়বছর তিনি সম্পাদনা করেন। ১৯৯৮ সালে সাংবাদিক দিলাল দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বিজনেজ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন। প্রথম আলোতে কাজ করার সময় তার জীবনে এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা ঘটে। ওইসময়ে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্যে কলকাতায় গিয়ে এক হোটেলে ওঠেছিলেন।তখন ওখানকার পুলিশ ভুলবসত তাকে গেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এপার বাংলা ও ওপার বাংলার সাংবাদিকমহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয় ও দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেসময়ে বাংলাদেশের জাতীয সংসদে সীতাকুণ্ডের এমপি আলহাজ্ব এ বি এম আবুল কাসেম তাঁর অনির্ধারিত বক্তৃতায় বিনাকারণে গ্রেপ্তাকৃত সাংবাদিক দিলালকে অবিলম্বে মুক্তিদানের জন্যে সরকারকে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। নানামুখি চাপে সেদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাংবাদিক দিলালকে বেখসুর খালাস দিতে বাধ্য হয়। এঘটনাটি সাংবাদিক দিলালের জন্যে সাপেভর হয়েছিল। জাতীয়ভাবে সর্বমহলে সাংবাদিক দিলালের পরিচয়ের পরিধি প্রসার ঘটে।
২০০৪ সালে সাংবাদিক দিলাল বিজনেজ এডিটর হিসেবে আমার দেশ পত্রিকায় যোগ দেন। সেখানে প্রায় ৬বছর চাকরি করার পর ২০১১ সালে তিনি সকালের খবর পত্রিকায় প্রথমে বিজনেজ এডিটর ও পরে চিফরিপোর্টার হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এখানে ৫বছরের মতো কাজ করার পর ২০১৬ সালে একুশে টেলিভিশনে প্ল্যানিং এডিটর হিসেবে যোগ দিয়ে অদ্যাবধি সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাংবাদিকতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিক দিলাল পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংবাদিক-সংগঠন ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটির তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও অর্থসম্পাদক ছিলেন্। চিটাগাং জার্নালিস্ট ফোরাম ঢাকা’র তিনি দুবার সাধারণ সম্পাদক ও তিনবার প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেন। ইকোনমিক রিপোর্টার ফোরাম (ইআরএফ) এর তিনি বর্তমানে সভাপতি। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সেবাপ্রতিষ্ঠান এপেক্স ক্লাব বাংলাদেশের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও এপেক্স ক্লাব গুলশান এর দু’বার সভাপতি ছিলেন।জাতীয প্রেসক্লাবেরও তিনি সদস্য। সীতাকুণ্ড সমিতি-ঢাকা ও সীতাকুণ্ড সমিতি- চট্টগ্রামের আজীবন সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত।
সাংবাদিক দিলালের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনেতিক সেমিনার, নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদসংগ্রহের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত WTO কনফারেন্স ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় টার্মের নির্বাচন কাভার করতে তিনি সুইজারল্যান্ড ও আমিরিকায় গমন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি পেশাগত ও ব্যক্তিগত কারণে ইউরোপের প্র্রায় সবদেশ, সৌদিআরর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বহু দেশ সফর করেন।
তিন কন্যাসন্তানের জনক সাংবাদিক দিলালের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার মৌলভীপাড়া গ্রামে। বাবার নাম আবু তাহের ও মা শাহানারা বেগম। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দিলাল সর্বকনিষ্ঠ।

See More

Latest Photos