সিতাকুন্ডে ৮১ লাখ টাকার ইয়াবাসহ আটক ২জন

Total Views : 289
Zoom In Zoom Out Read Later Print

নিউজ ডেস্ক ।।

চট্টগ্রামের সিতাকুন্ড থানা পুলিশের কাছে সংবাদ আসে একটি চক্র মাইক্রোবাসযোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ঢাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে। তাৎক্ষণিক সীতাকুন্ড সার্কেলের এএসপি শম্পা রানী সাহা ওসি ইফতেখার হাসান ও ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেলকে সাথে নিয়ে মহাসড়কের বড়দারোগারহাট ওজন স্কেল এলাকায় চেক পোস্ট স্থাপন করেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টার্গেটকৃত মাইক্রোবাসটি ঐ এলাকায় এসে পৌঁছালে পুলিশ থামার জন্য সংকেত দেয়। কিন্তু গাড়িটি না থামিয়ে সোজা পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলেও পুলিশ ধাওয়া করে। এসময় দুই জন গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে গেলেও অন্য দুই জনসহ মাইক্রোবাসটি আটক করে পুলিশ। এদিকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আটকের পর পুরো গাড়িটি চিরুণী তল্লাশি করেও কোন ইয়াবা পায়নি পুলিশ। এমনকি গাড়ির সিটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি খুলেও তল্লাশি করা হয়। কিন্তু কোন ইয়াবা না পেয়ে পুলিশ যখন বিভ্রান্ত ঠিক তখনই একটি কূটকৌশলের আশ্রয় নেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা গাড়িতে থাকা চালক জুয়েল কান্তি দে ও হেল্পার নামধারী পাচারকারী শাহজাহানকে আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে গিয়ে খোশ গল্প শুরু করেন। এক পর্যায়ে হেল্পার নামধারী শাহাজাহানকে বলা হয় এই গাড়িতে যে ইয়াবা ছিলো আমরা নিশ্চিত। আমরা জানি তোমরা অন্য কারো হয়ে অভাবের তাড়নায় কাজ কর। এই কাজ করে কিছু টাকা পাও। আমরা তোমাকে ৮-১০ হাজার টাকা দেব এবং ছেড়েও দেব, যদি ইয়াবাগুলো দেখিয়ে দাও। শেষে কথামত তার হাতে টাকা দিলে মুক্তি পাবার লোভে পড়ে সে স্বীকার  করে যে ইয়াবাগুলো এই মাইক্রোবাসেই আছে। এতে অবাক হয়ে যান পুলিশ কর্তারা। এরপর সে গাড়ির পেছনের দিকে নিচে স্থাপন করা অতিরিক্ত একটি চাকার ভেতরে অভিনব কায়দায় প্যাকেটে রাখা ইয়াবার বান্ডেলগুলো দেখিয়ে দেন।

সীতাকুন্ড থানা সার্কেলের এএসপি শম্পা রানী সাহা বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাইক্রোবাসটি আমরা আটক করলেও অনেক খুঁজেও ইয়াবাগুলো আমরা পাইনি। কিন্তু শেষে তাদের মুক্তি দিয়ে টাকা পয়সার লোভ দেখালে তারা ইয়াবাগুলো দেখিয়ে দেয়। তাতে মোট ২৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। যার মূল্য আনুমানিক ৮১লাখ টাকা। পরে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত দুই পাচারকারী হলো, গাড়ি চালক কক্সবাজার চকরিয়া থানার ডুলহাজারা এলাকার জুয়েল কান্তি দে (৩৩) ও রামু থানার জোয়ারীনালা এলাকার লাল মিয়ার ছেলে মো. শাহাজাহান (২২)।

সীতাকুন্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো.মোজাম্মেল হক বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

থানায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানায়, তারা নির্দেশমত ইয়াবাগুলো ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে কারা নির্দেশদাতা তা জানেন না বলে এড়িয়ে যায় তারা। অপরদিকে এর আগে সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সীতাকুন্ড বাস স্ট্যান্ডে ৩ হাজার ইয়াবাসহ আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পৃথক আরো একটি মামলা দায়ের করেছেন এস.আই মো. আশরাফ হোসেন।

তথ্য ঃ সংগ্রহ । 

See More

Latest Photos