যেন এভাবেই লিখে যেতে এবং সবার জন্য কিছু করতে পারি - Soumitra Chakraborty

Total Views : 132
Zoom In Zoom Out Read Later Print

কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার হাত দুটি চেপে ধরে তাঁর মাথায় নিয়ে ঠেকালেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, এই হাত আমার অন্নদাতা! আমি এই হাতের লেখা বেচে খাই! আমার স্ত্রী- সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিই - এ হাতের লেখা বিক্রি করে! আমি বিস্মিত হয়ে যাই।

লোকটি আমার বাবার বয়সী। সাধারণত এই বয়সী লোকদের আমি একটু বেশীই শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তাঁকে শ্রদ্ধা তো দূরের কথা দেখলেই প্রচন্ড রাগ হতো আমার। কারণ, আমার লেখা অনুমতি ছাড়াই তাঁর নিজের পত্রিকায় ইচ্ছামত ছাপাতেন তিনি। এক সংখ্যায় ৫-৭টি নিউজও ছাপাতে দেখিছি। আমার কাছে এভাবে অন্যের নিউজ ছাপানোকে চুরিই মনে হতো। অবশ্য পত্রিকা আর লেখা দেখলেও তাঁকে চিনতাম না। একদিন হটাৎ এক জায়গায় তিনি এসে আমাকে এক কপি পত্রিকা দিয়ে বললেন এটি আমার। দেখুন আপনারও অনেক লেখা আছে। দেখলাম ৫৫-৬০ বয়সী একজন ব্যক্তি তিনি। এতদিন মনে ক্ষোভ থাকলেও এই বয়সী তাকে দেখে তা প্রকাশ করলাম না। কিন্তু তাঁর সাথে কথা বলতে মন থেকে সাড়া পাইনি। এরপর বহুবার তিনি কথা বলতে এগিয়ে এলেও আমি এড়িয়ে গেছি। কয়েকদিন আগে তিনি প্রেসক্লাবে ইফতার মাহফিলে এসে উপস্থিত। তাকে দেখে অন্যদিকে যাচ্ছিলাম, কিন্তু তিনি সামনে এসে দাড়ালেন। কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার হাত দুটি চেপে ধরে তাঁর মাথায় নিয়ে ঠেকালেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, এই হাত আমার অন্নদাতা! আমি এই হাতের লেখা বেচে খাই! আমার স্ত্রী- সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিই এ হাতের লেখা বিক্রি করে! আমি বিস্মিত হয়ে যাই। এতদিন তার প্রতি যে ঘৃনা, ক্ষোভ ছিলো তা যেন মহুর্তেই হারিয়ে গেল। চোখের সামনে ভেসে উঠল এক অসহায় বাবার ছবি। মনে মনে ভাবলাম এভাবেই বুঝি অন্যের ঘৃনা বিদ্বেষ মাথায় নিয়ে বাবারা সন্তানকে মানুষ করেন! বিশ্বাস করুন, চোখের কোনে জল এসে গেল। ঘৃনার পরিবর্তে এই প্রথমবার অনেক শ্রদ্ধা ভালোবাসায় তাঁর হাত ধরলাম। বললাম, আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন, যেন এভাবেই লিখে যেতে এবং সবার জন্য কিছু করতে পারি। তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। দারুন শান্তি অনুভব করলাম। আজ সে ভালো লাগার কথা শেয়ার করলাম আপনাদের সাথেও।

See More

Latest Photos