বাবা দিবসে ডিবি'র এসপি রেজাউল মাসুদ, বাবার স্মৃতি চারণ

Total Views : 148
Zoom In Zoom Out Read Later Print

বিডি ক্রাইম নিউজ ডেস্ক!

বাবার দূর্লভ স্মৃতি বিনেসুতায় গাঁথা। বাবা’র তুলনা বাবা স্বয়ং।

আগামীকাল বাবা দিবসে প্রিয় বাবাকে নিয়ে লেখার প্রথম পর্ব:


এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে সোজা বাড়ীর দিকে হাঁটতে থাকেন।এই সময়টায় কোরআন তেলাওয়াতে মনোনিবেশের জন্য তিনি সাধারণত কাউকে সঙ্গী হিসাবে নেন না।সুরা ইয়াসীনের মধুর সুরে মাটির রাস্তার প্রতিটি কদমই যেন তার সঙ্গী সাথী।ঘরে ফিরে কিছুক্ষনের মধ্যেই ইয়াসীন সুরার তেলাওয়াত এবং দোয়া শেষে পান খাওয়ার দিকে মনোযোগ দেন তিনি।খাঁটের মাঝটায় বসে রেডিওটা অন করে উত্তরন অনুষ্ঠান শুনার পাশাপাশি ছেলেদের পড়া শুনতে থাকেন।


ছোট ছেলেটি কেবলই ক্লাস টুতে উঠেছে।মসজিদ থেকে আসার আগেই ও ঘুমিয়ে পড়ে।মেঝ ছেলে বাবাকে দেখানোর জন্য তখনও পড়া চালিয়ে যাচ্ছিল,ইউ কে উই পড়ায় পাশের রুম থেকে সংশোধন করে দেয়ার পরও একই ভুল করতে থাকে,বাবা একটু বকা দেয়।বড় ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে,রোল ওয়ান থেকে টু হওয়ায় মা সহ সবাই চিন্তিত ,পড়াশুনায় বেশ সিরিয়াস কাজের চেয়ে মহড়াই যেন বেশী তার।মেঝটা বকা খাওয়ায় মনে মনে বেশ খুশী হয় সে।আদরের একমাত্র মেয়ে সদ্য আনন্দমোহনে ফিজিক্সে ভর্তি হয়েছে।ফ্রেন্ডদের সাথে কলেজ টিচার সোবহান স্যারের বাসায় মেসে উঠেছে,থাকা খাওয়া ঠিকমত হচ্ছে কিনা,কলেজে ক্লাসের পাশাপাশি প্রাইভেটের সাথে তাল মিলাতে হিমশিম খাচ্ছে কিনা,তার জন্য নানান  দুশ্চিন্তার যেন শেষ নাই।


জামালপুর সদর থানার ভারুয়াখালী মফস্বল এলাকা।সেখানকার হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক তিনি।গণিতের নামকরা বিএসসি স্যার হিসাবে এলাকায় ব্যাপক সুনাম তার।গণিত ও বিজ্ঞানের সুক্ষাতি সুক্ষ অনেক জটিল বিষয় খুব সহজেই ছাত্রদের আত্মস্হ করিয়ে দিতে বেশ পারদর্শী তিনি।নির্লোভ নিরহংকার মানুষ গড়ার নিরন্তর কারিগর তিনি।একবার প্রধান শিক্ষকের সাথে স্কুল পরিচালনা পর্ষদের মতবিরোধ হয়, পদত্যাগ করেন প্রধান শিক্ষক। আব্বার উপর অনুরোধ তদ্বির নানামুখি চাপ আসতে থাকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার। আব্বা কোনভাবেই হেড টিচার  হবেনা।ছাত্রছাত্রীদের দিকে মনোযোগ মনোনিবেশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা, একাডেমিক কার্যকক্রম কিংবা ক্লাস নেয়ার বিঘ্ন ঘটা অথবা নিজ পরিবারে সময় কম দেয়া প্রভৃতি নানা অজুহাতে সসম্মানে  ফিরিয়ে দেন প্রধান শিক্ষকের সেই লোভনীয় প্রস্তাব ।বটবৃক্ষের মত নির্লোভ নিরহংকার, এই হলো আমার প্রিয় শিক্ষক বাবা।


আব্বার অনুপ্রেরণা উৎসাহ দেয়ার টেকনিকটাই ছিল দারুন আর অন্যরকম।স্কুলের নামকরা সেরা ছাত্রদের আমরা অনেক ছোট সময় থেকেই বাইনেমে জানতাম,সবসময় আমাদেরকে তাদের গল্প শুনাতো।ভাল ছাত্রদের পরীক্ষার খাতা আমাদের সবসময় দেখাত,বলতো দেখেছো কত সুন্দর লেখেছে,খাতায় কলম ধরার জো নেই।শিক্ষাবোর্ড পরীক্ষার খাতাও তেমনি স্কুলের ছাত্রদের দেখিয়ে দেখিয়ে টেকনিকগুলো ধরিয়ে দিতো,কিভাবে লিখলে সেন্ট পার্সেন্ট মার্কস পাওয়া যায়,কেমন করে উপস্হাপন করলে শিক্ষক খুশি হন, তার নানান বিশ্লেষনে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে দিতো।সবসময় ভাল ছাত্র তৈরী করার তাগিদ আমার শিক্ষক বাবা  ভিতর থেকে অনুভব করতেন।


ইন্টারমিডিয়েটে আনন্দমোহন কলেজ হোস্টেলে থাকি তখন,এক ছুটিতে আমাদের হোস্টেলে  দেখতে আসেন আব্বা।দক্ষিণ ব্লকের চৌদ্দ নম্বর রুমে আমরা ভারুয়াখালি স্কুলেরই চারজন থাকি।সাড়ে এগারো কি বারোটা বাজে, তিনি রুমে ঢুকে দেখেন আমরা কেউ নেই।কলেজ বন্ধ ,প্রাইভেটও বিকেলে ,তাহলে এই সময়ে সবাই গেলো কোথায় ,আব্বা অস্বস্তি আর নানান ভাবনায় পড়ে যান,আমি যে খাটটায় থাকি সেই দিকটায় দুশ্চিন্তায় বসে পড়েন।


চলবে….

See More

Latest Photos