মানিকছড়ির হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ২মাস অফিস করছেন না,ভোগান্তি চরমে

Total Views : 149
Zoom In Zoom Out Read Later Print

আবদুল মান্নান,মানিকছড়ি

তৃণমূলে সরকারী অফিস-আদালতে জনসেবায় উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। মাসের বেশির ভাগ সময়ই ব্যতি-ব্যস্ত থাকতে হয় ওই অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতা, পেনশন, উৎসবভাতাসহ সরকারী সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিল উত্তোলনে হিসাব রক্ষণ অফিসে জনসমাগম নিত্যচিত্র।

মানিকছড়ি উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের খবর নতুন কিছু নয়! তবে নতুন হলো এখানকার কর্মকর্তা ক্ষমতার দাপট! তিনি কোন প্রকার ছুঁটি-ছাটা ছাড়াই টানা গত দু’মাস অফিসে না এসে শহরে লকডাউনে থেকে দিব্যি রাজকীয় হালে অফিস থেকে ফাইল শহরে নিয়ে সই-স্বাক্ষর করছেন। সরকারী চাকুরীর বিধিনিষেধ,ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করেই জনদূর্ভোগ বাড়িয়ে হাল-হকিকতে চাকুরী করছেন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দীন!

জনপ্রশাসনের জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস একটি দপ্তর। এই অফিসে সরকারী সকল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তদের আসা-যাওয়া বাধ্যতামূলক। চাকুরীর শুরু থেকে শেষ এবং অবসর কালীণ সময়েও হিসাব রক্ষণ অফিসে লেফরাইট করতে হয় সরকারী চাকুরীজীবিদের। এর পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ঠিকাদারদের কাজের বিল উত্তোলনে, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ভাতা, পেনশন সুবিধা, উৎসবভাতা, টাইম স্কেল,শান্তিবিনোদন বিল পেতে হিসাব রক্ষণ অফিসের দ্বারস্থ হওয়ার বিকল্প নেই।

এই সুযোগে মানিকছড়ি হিসাব রক্ষণ অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে নিরব ঘুষ বাণিজ্যে খ্যাতি অর্জণ করেছে! গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার দেশব্যাপি বৈশ্বিক মহামারি‘করোনা’র প্রতিরোধে লকডাউন ঘোষণা করলেও সরকারী অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেন। যার ফলে উপজেলা সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা কম-বেশি কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জনপ্রতিনিধিদের সরকারী কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখলেও একমাত্র ব্যতিক্রম এখানকার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দীন আজ পর্যন্ত (২৮মে) একদিনও তিনি অফিসে আসেনি! লকডাউনের অজুহাতে চট্টগ্রাম শহরে বাসায় অবস্থান নিশ্চিত করে অফিস সহকারীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে প্রাইভেটকার যোগে ফাইলপত্র আনা-নেওয়া করিয়ে বিভিন্ন বিলে সই-স্বাক্ষর করছেন ওই দাপটি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দীন!

শান্তি বিনোদন বিলে উপজেলার প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক শিক্ষক এবার জনপ্রতি ৩শ টাকা হারে উৎকোচ দিয়ে বিল অনুমোদন করিয়ে আনতে হয়েছে। এছাড়া সরকারী উন্নয়ন কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা বিল উত্তোলন করতে গিয়ে নির্ধারিত কমিশনের পাশাপাশি ফাইলপত্র শহওের আনা-নেওয়ায় গুনতে হয়েছে প্রাইভেটকার ভাড়া! গত ২ মাসে অন্তত ১৫বার প্রাইভেট কার শহরে পাঠিয়ে বিলে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার সই-স্বাক্ষর নিতে হয়েছে উপজেলা ৫/৭ জন ঠিকাদারের।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ঠিকার মো. রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ হিসাব রক্ষণ অফিসে এভাবে জনদূর্ভোগ পোহাতে হলে সরকারের জনসেবা প্রশ্নবৃদ্ধ হয়ে উঠে! প্রতিনিয়ত কাজের বিল অনুমোদন করতে শহরে গাড়ী পাঠিয়ে দান-দক্ষিণা (কমিশন) দিয়ে বিল উত্তোলন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনা।

See More

Latest Photos