করোনায় আক্রান্ত বাড়ছে, বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর হাতছানি

Total Views : 151
Zoom In Zoom Out Read Later Print

আতাউল হাকিম আরিফ

ক্রমেই ভয় বাড়ছে,চারদিকে মৃত্যুর হাতছানি।পূর্বে আশংকা করা হচ্ছিল মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ কোভিড ১৯ বাংলাদেশে ব্যাপকতর মাত্রা লাভ করবে।বিশেষজ্ঞরাও এমনতর মতামত দিয়েছেন আশংকা টা পুরোপুরি ফলে গেলো, ক্রমশ; নিজের চেনাজানা মানুষগুলোকেও হারাতে হচ্ছে! আজ ( ২৭.০৫.২০) আমার একজন বেয়াই ( বড় ভাই 'র ছেলের শশুড়-৫৫) চির বিদায় নিলেন।এর আগেও দুইজন খুব পরিচিত ব্যক্তি মারা গেলেন। ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে আমার আপন দুজন ফুফাতো ভাই,এদের একজন চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান ইয়ং ওয়ানের HR ডিপার্টমেন্ট চাকুরী করেন।এছাড়াও আমাদের সীতাকুণ্ডের পরিচিত বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দুইজন ( জাহাঙ্গীর /ইকরাম) সহ সাংবাদিক শিল্পী ভাই, ছোট ভাই ফজল সহ এই পর্যন্ত আক্রান্ত ৭২ জন, তারমধ্যে ২ জন মারা গেছেন।সার্বিকভাবে চট্টগ্রামের চিত্র খুবই ভয়াবহ। কাউন্সিলর মোজাহের ভাই (ভীষণ আন্তরিক ছিলেন) শ্রমিকলীগ নেতা মাহবুব ভাই সহ পরিচিত কয়েকজন মারা গেলেন।আমাদের নেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, ডাঃ সমিরন (অর্থোপেডিক্স) সাংবাদিক ফরিদ ভাই সহ পরিচিত আক্রান্তের তালিকাটাও বেশ বড়সড় বলা চলে।এককথায় মনের মধ্যে ভয় জাগানিয়া গুমোট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।এরমধ্যে ৩০ মে-২০২০ থেকে আবার অফিস, আদালত খুলে যাচ্ছে।গণ পরিবহণ বন্ধ থাকলেও আমার ধারণা সর্বত্র মানুষের ছাপ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।নিন্ম আয়ের মানুষ ট্রাকে,লরীতেও হলেও  চাকরি বাঁচাতে ছুটবে।ইতোমধ্যে ঈদকে কেন্দ্র বাড়িমুখী যাতায়াত, ঈদের জামাত এমনিতেই করোনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।এই অবস্থায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে বলা মুসকিল।দেশে বিশেষায়িত কোভিড হাসপাতাল এর মারাত্মক সংকট তারউপর ICU /Ventilation  বলতে গেলেই পুরোপুরি অপ্রতুল। (চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ পিপিই প্রদান করেছে এস আলম গ্রুপ অথচ তাঁদের-ই একজন মোরশেদ সাহেবও সময়সাপেক্ষে ICU  ব্যাড পাননি) আমি বিশ্বাস করি এখনো সময় আছে দেশকে ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার।দয়াকরে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করুন (যারা আছে তাঁদের সাথে আরো কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ/ বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিন) দেশের সবগুলো প্রাইভেট মেডিকেল কলেজকে করোনার চিকিৎসায় কাজে লাগানো যেতে পারে, এতে সময় ও কাঠামোগত ব্যাপক সাশ্রয় হবে।প্রয়োজনে আর ১৫ টা দিন সাধারণ ছুটি নয় লকডাউন কিংবা কার্ফু দিন।আর কোনো তামাসা নয় শেষবারের মতো দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পুরো জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করুন।বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা মেনে নিয়েও এইটুকু বলতে দ্বিধা নেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ শাসনে এখনো অনেক দেশের চেয়েও আমরা এগিয়ে আছি-মানুষ ভালো থাকলে,বেঁচে থাকলে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি ইনশাআল্লাহ অচিরেই ঘুচে যাবে।

See More

Latest Photos