চবি তে অনলাইনে পাঠদান চালু করলেন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক

Total Views : 289
Zoom In Zoom Out Read Later Print

হৃদয় আলম চবি প্রতিনিধি


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি)অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাঠদান শুরু করেছেন  প্রাণীবিদ্যা বিভাগের এক শিক্ষক।

আজ বুধবার(১লা মার্চ) প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ফিশারিজ এন্ড লিমনোলজি শাখার মাস্টার্সের ৫২১ নাম্বার কোর্সটির ক্লাস নেওয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু করেন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া। যেখানে অংশগ্রহণ করে বিভাগটির ওই শাখার ২০ জন শিক্ষার্থীর ১৬ জন। যা ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে। বিষয়টি সম্পর্কে ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে লম্বা ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়। এসময় শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য এমন কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন । প্রায় এক সপ্তাহ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছিলেন তিনি। পরে অনলাইনে ক্লাসের বিষয়টি মাথায় আসে। তারপর ফেসবুক গ্রুপ, স্কাইফি, ইমোসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন । কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। পরে 'জুম' নামে আরেকটি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করে সুফল পাওয়ায় সেটিকে পছন্দ করা হয়। 

ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে একসাথে ১০০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পারবে। আর তা সম্পূর্ণ ক্লাসরুমের মতোই। প্রথমে সফটওয়্যারটিতে একটি আইডি খুলে সেখানে শিক্ষার্থীদের ইনভাইটেশান পাঠিয়ে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে যুক্ত হতে হয় । পাওয়ার পয়েন্ট ব্যাবহার করে শিক্ষার্থীদের লেকচার দেওয়া হয়।  এখানে একসাথে শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে দেখা যায়। কেউ কোন সসস্যার সৃষ্টি করলে তাকে মিউট করে দেওয়ারও ব্যাবস্থা রয়েছে। তাছাড়া কোন শিক্ষার্থী চাইলে প্রশ্ন করতেও পারেন। আর পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে লেকচার দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্ক্রিণশর্ট দিয়ে সংরক্ষণ করে পরে এটি নোট করতে পারে।ড.  মনজুরুল কিবরিয়া বলেন,  এটি কেবল এই সময়ের জন্য নয়। কোন শিক্ষক দেশের বাইরে থাকলে বা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কোন সমস্যার কারণে ক্লাস বন্ধ থাকলে এই পদ্ধতিতে শ্রেণী কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব।  আমাদের শিক্ষার্থীরা বেশ আগ্রহী আছে। তারা অনেকেই আজ যুক্ত হয়েছেন। এইজন্য আমি এক সপ্তাহ ধরে তাদের ফেসবুক গ্রুপে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের সকল শিক্ষক এই বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে পারে । কখন এই মহামারী শেষ হবে তা কারও জানা নেই। এমন লম্বা সময় যদি শিক্ষার্থীরা ক্লাসের বাইরে থাকে তাহলে তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

গ্রামে যেসকল শিক্ষার্থী রয়েছেন তারা কিভাবে যুক্ত হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য একটু সমস্যা। তবে আমাদের এক শিক্ষার্থী নোয়াখালী থেকেও যুক্ত হয়েছেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে তাদের সুবিধা মতো ক্লাসের সময় নির্ধারণ করা হবে। আর এই কোর্সটি সম্পূর্ণ করা পর্যন্ত আমরা এটি চালিয়ে যাবো।এইদিকে এই শিক্ষকের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে এই ধরণের উদ্যেগ যথার্ত বলেও মনে করছেন তারা। বিভাগটির শিক্ষার্থী গৌঁরচাদ ঠাকুর  বলেন, স্যারের কোর্সে আর কয়েকটা ক্লাস হলেই শেষ হয়ে যাবে। সেজন্য  স্যার অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। যেহেতু সময়টা আপদকালীন, তাই এই সময়ে এমন ক্লাস যথেষ্ট সময়োপযোগী।তিনি বলেন,প্রযুক্তিকে দরকারের সময় কাজে লাগাতেই হবে।চাইলে যেকোন বিভাগেই এভাবে তাত্ত্বিক ক্লাসগুলো নেওয়া যায়। ল্যাবের কাজগুলো অর্থাৎ ব্যবহারিক ক্লাসের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাপারটি আলাদা।

See More

Latest Photos