শিশুরা হাসবে,খেলবে! ধর্ষিত হবে কেন?

Total Views : 80
Zoom In Zoom Out Read Later Print

উম্মে হাবীবা ইসপা,সৌমিতা দাশ,সৌমিত দত্ত।

শিশু ধর্ষণ শিশু নির্যাতনের একটি অংশ। যদি কোন শিশু বা কিশোর দ্বারা এই কাজটা করা হয় তাহলে একে বলা হয় শিশুর প্রতি নির্যাতন। যদি বয়সে বড় কোন ব্যক্তি দ্বারা এই ঘৃণ্য কাজটি করা হয় তবে একে বলা হয় ”অত্যাচার”। দেখা গেছে এর ফলে নির্যাতিত শিশু মনস্তাত্তিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। নারীদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বলেছেন বাংলাদেশের ২০১৬ সালে এক হাজারের ও বেশী নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ১৪টি দৈনিক পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে প্রতি বছর ৩০০ এর বেশী শিশু ধর্ষণের শিকার।
এই ঘটনাগুলোকে ধর্ষণ, গনধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা এই তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। আমরা যখনই পত্রিকা খুলি না কেন ধর্ষণের খবর পাব না তা বোধ হয় হওয়ার নয়। সব জায়গায় নারীদের সুযোগ বেড়েছে কিন্তু যা বাড়েনি তা হলো নারীর নিরাপত্তা। অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা অনেক দূরের কথা যেখানে ৪/৫ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষণ হচ্ছে।

আমাদের আইনের ধর্ষণজনিত বিধান থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই।
১/২ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩), ২/২ দন্ডবিধি ১৮৬০ ৩/২ সাক্ষ্য আইন ১৮৭২, ৪/২ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৬০।
বিভিন্ন জরীপের মাধ্যমে উঠে আসে কোন সালে কতজন শিশু ধর্ষিত হয়েছেঃ
১!! ২০১৬ সালে ধর্ষণের শিকার ৪৪৬ জন
২!! ২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার ৫৯৩ জন
৩!! ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার ৭৩২ জন
২০১৯ সালে নতুন বছরের শুরুতে আমরা দেখি ডেমরায় ২শিশু নুসরাত ও ফারিয়া নামে যাদের বয়স মাত্র ৫ বছর, যারা সবে মাত্র স্কুল যাওয়া শুরু করেছিল তাদের দুই জনকে এক মাদকাসক্ত ও ডাকাতির আসামী ধর্ষণ করে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। তাদের বাবা-মা দেশবাসীর কাছে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শিশু ধর্ষণের পিছনে কে বা কারা জড়িত। সম্প্রতি চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আমরা ৩ শিক্ষার্থী গত কয়েক বছরের ঘটনা বিশ্লেষন করে দেখি, জড়িতদের মধ্যে বেশিরভাগ বেকার বখাটে যুবক মাদকাসক্ত ও ইয়াবা ব্যবসায়ী, তাছাড়া কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ও শিক্ষকের নাম ও উঠে আসে। ধর্ষণের নেশায় কিছু মানুষরুপী নরপশুরা এতটা বিকৃত পর্যায়ে চলে এসেছে যা ভাষায় প্রকাশ করা দায়।

দন্ডবিধি ৩৭৫ অনুযায়ী নারী সম্মতিসহ বা সম্মতি ছাড়া সে যদি ১৬ বছরের নিচে হয় তাহলে কেউ যদি তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। ধর্ষণের জন্য যে শাস্তির কথা আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে সেখানে কোথাও মৃত্যুদন্ড কথা উল্লেখ নেই যা আছে তা হলো যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অর্থদন্ড। যার ফলে অপরাধীরা ঘুষ দিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়।
এই সমস্যাটি এতটা মর্মান্তিক যে একে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিকারের মাধ্যমে আমাদের সমাজকে কিছুটা হলেও এই অপরাধ থেকে বের করে নিয়ে আসতে পারব।

ধর্ষণের প্রতিকার সমূহঃ
১/ ধর্ষণকারী ও ধর্ষীতার জন্য পারিবারিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্ষণ সমস্যা মোকাবেলায় পরিবারের ভ’মিকা অনেক বড়।
২/ নারী ও শিশু বান্ধব শিক্ষাঙ্গন এবং অন্যান্য বিচরণক্ষেত্র ব্যবস্থা করতে হবে।
৩/ আইনের যথাযত প্রয়োগ করতে হবে।
/ অনৈতিক কাজের ক্ষেত্র নষ্ট করতে হবে।
/ ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৬/ বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন আনতে হবে।
৭/ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার চর্চা করতে হবে।
৮/ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

শেষ করার আগে বলতে চাই যে সব শিশুরা ধর্ষণের পর বেঁচে আছে তারা অনেকে এই ঘটনার পর পুরুষ মানুষ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এমনকি তারা নিজের পিতাকে সহ্য করতে পারে না। আরেকটি ধর্ষণের মামলায় সাক্ষ্য আইনের সাহায্য নিতে হয়। বিষয়টি আরও সহজ করা যায় কিনা এই প্রশ্নে অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে আইন সংশোধন করা যেতে পারে যেখানে ভিকটিম শিশুকে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে না। অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে হয়তো অপরাধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং শিশু ধর্ষণের ব্যাপারে যদি আলাদা সেল করা হয়, মামলার গতি তদারকি করা হয় তাহলে এ ধরণের অপরাধ অনেকটা কমতে পারে।

লেখকঃ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হলেন, উম্মে হাবিবা ইসফা, সৌমিতা দাশ ও সৌরভ দত্ত।

See More

Latest Photos