সীতাকুন্ডের ত্রিপুরা পাড়ায় দুই বান্ধবীর লাশ - মুখে বিষ, গলায় ফাঁস ।

Total Views : 153
Zoom In Zoom Out Read Later Print

সীতাকুণ্ডে নিজ বসতঘরে ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় দুই ত্রিপুরা কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকালে উপজেলার পৌরসদরের জঙ্গল মহাদেবপুর এলাকার ত্রিপুরা পাড়া থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

সীতাকুণ্ডে নিজ বসতঘরে ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় দুই ত্রিপুরা কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকালে উপজেলার পৌরসদরের জঙ্গল মহাদেবপুর এলাকার ত্রিপুরা পাড়া থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো ত্রিপুরা পাড়ার পুনেল কুমার ত্রিপুরার মেয়ে সুকুলতি ত্রিপুরা (১৫) ও সুমন কুমার ত্রিপুরার মেয়ে ছবি রানী ত্রিপুরা (১৪)। নিহতদের পরিবারের দাবি, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় চৌধুরী পাড়া এলাকার বখাটে যুবক আবুল হোসেন (২৪) ও তার সঙ্গীরা ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে দুই কিশোরীকে হত্যা করেছে। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বখাটেরা দুই কিশোরীর মুখে বিষ ঢেলে বসতঘরের একটি কক্ষে দুজনকে একসাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে জঙ্গল মহাদেবপুরের গহীন পাহাড়ে ২৫টি ত্রিপুরা পরিবার বসবাস করে। বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দরিদ্র, অসহায় পরিবারগুলো সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। পাশের গ্রামের বখাটে যুবকেরা সেখানে মদ পান করে, আড্ডা দেয় আর পরিবারের মেয়েদের বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করে। বখাটেদের কাছে তারা অসহায়। গত শুক্রবার বিকালে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রায় দুশ মিটার উপরে টিলায় বসবাসরত সুমন কুমার ত্রিপুরার বসতঘরে দেখা যায়, দুই কিশোরীর লাশ। ওদের মুখে ও গলায় দাগ দেখা গেছে। পরিবারের লোকজন তাদের সন্তানদের হারিয়ে আহাজারি করছে। নিহত সুকুলতি ত্রিপুরার বাবা পুনেল কুমার ত্রিপুরা জানান, গত এক মাস ধরে স্থানীয় চৌধুরী পাড়ার ইসমাইল হোসেনের পুত্র আবুল হোসেন তার বখাটে সঙ্গীদের সাথে নিয়ে ত্রিপুরা পাড়াতে গিয়ে সুকুলতি ত্রিপুরাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে সুকুলতি অসম্মতি জানালে আবুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়। সপ্তাহখানেক আগে সুকুলতিকে তার হাতে তুলে দিতে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিষয়টির প্রতিবাদ জানালে আবুল হোসেন আমার মেয়েকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেয়। তিনি বলেন, আমাদের অনুপস্থিতিতে আমার মেয়ে সুকুলতি ও তার বান্ধবী ছবি রানীকে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে এবং পরবর্তীতে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে আবুল হোসেন। নিহত ছবি রানীর পিতা সুমন ত্রিপুরা মেয়ের নিথর দেহের সামনে বসে আহাজারি করছেন। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান ফটিকছড়িতে মামার বাড়ি বেড়াতে গেছে। ঘরে বড় মেয়ে ছবিকে রেখে আমি সকালে পাহাড়ে জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য গিয়েছিলাম। বিকালে এসে দেখলাম আমার মেয়ে ও তার বান্ধবী আমারই ঘরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে। তাদের মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে হত্যাকারীরা। ছবি রানী সীতাকুণ্ড দত্তবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণীতে পড়ে। আমার মেয়ে যদি ফাঁস খেয়ে আত্মহত্যা করত, তাহলে মুখে বিষ কেন? আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দারা জানান, সকালে জুমচাষের জন্য কিশোরী সুকুলতি ও ছবি রানীকে ঘরে রেখে তার বাবা–মা পাহাড়ে যান। বিকাল ৩টার দিকে নিজ ঘরে ফেরার পর পুনেল ত্রিপুরার বসতঘরের একটি কক্ষে দুই কিশোরীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আর্তচিৎকার করেন সুকুলতির মা। এতে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। মহাদেবপুর ত্রিপুরা পাড়ার সর্দার নির্মল চন্দ্র ত্রিপুরা জানান, এখানে প্রায় ২৫ পরিবার বসবাস করে। ত্রিপুরা পাড়ায় প্রায় সময় পার্শ্ববর্তী গ্রামের বখাটে কয়েকজন যুবক এসে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। নিহত সুকুলতির পিতা পুনেল কয়েকজন বখাটে যুবক তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে বলে আমাকে জানায়। তাই ত্রিপুরা পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গত সপ্তাহে নিজেদের মধ্যে বৈঠক হয়। পাড়ার সকল সদস্য যাতে নিরাপত্তার মধ্যে থাকে, পরিবারের অভিভাবকদের আরো সতর্ক হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু গতকাল দুই কিশোরীকে হত্যা করে পরিকল্পিতভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। আমি তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবরটি জানাই। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউল আলম চৌধুরী মুরাদ বলেন, আমার ওয়ার্ডে দুই কিশোরীর নিহতের ঘটনাটি রহস্যজনক। তবে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছেণ্ডএটা নিশ্চিত। দুই কিশোরীর লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পোস্ট মর্টেম প্রতিবেদন এলে ঘটনার রহস্যের জট খুলবে। তবে হত্যাকারী যেই হোক, তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান বলেন, সন্ধ্যা ৬টায় ঘটনাস্থল থেকে দুই কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এটাকে পরিকল্পিত হত্যা বলে নিহতের পরিবার দাবি করছে। মুখে বিষ প্রয়োগ ও একই কক্ষে দুজনের ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় থাকায় এটি প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত হত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে হত্যার সঠিক রহস্য বেরিয়ে আসবে। সূত্রঃ দৈনিক আজাদী ।

See More

Latest Photos